অসমাপ্ত প্রেম
অসমাপ্ত প্রেম
অপূর্ব আর মেঘলা, দুইটা নাম যেন একসঙ্গে জড়িয়ে থাকে। কলেজের প্রথম দিনেই তাদের পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, আর তারপর... কে জানে, ভালোবাসা কি ছিল? নাকি ছিল শুধুই এক মধুর মায়া?
মেঘলা যখন শেষবার অপূর্বর হাত ধরেছিল, তার চোখে ছিল অদ্ভুত এক বিষণ্নতা। অপূর্ব তখনও বুঝতে পারেনি, এই হাত ধরা শেষবারের মতো হবে। সেদিন সন্ধ্যায় মেঘলার বাবা তাকে নিয়ে চলে গেল অন্য শহরে।
অপূর্ব অপেক্ষা করেছিল, বারবার চিঠি লিখেছিল, কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি। কেবল রাতের আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে ভাবত, "মেঘলা কি আমাকে মনে রেখেছে?"
আজ দশ বছর পর, অপূর্ব হঠাৎ একদিন এক পার্কের বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে অনুভব করল, কেউ যেন পেছন থেকে ডাকছে...
সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়, দেখে মেঘলা! চোখেমুখে হাসির আভা, কিন্তু চোখের গভীরে সেই পুরোনো বিষণ্নতা এখনও লুকিয়ে আছে।
"অপূর্ব, কেমন আছো?"
শব্দগুলো কানে আসতেই অপূর্বর মনে হলো, সময় যেন আটকে গেছে, এক যুগের অপেক্ষা শেষে আবার যেন সব শুরু হতে চলেছে...
তারা দুজন পার্কের বেঞ্চে বসে গল্প করতে শুরু করল। পুরোনো দিনের কথা, স্মৃতি, আর হারিয়ে যাওয়া সময়ের কথা। অপূর্ব জানতে চাইল, "তুমি কেন চলে গেলে, মেঘলা? কেন একটা বারও যোগাযোগ করলে না?"
মেঘলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "বাবা চেয়েছিলেন আমি অন্য কোথাও নতুন জীবন শুরু করি। আমি চাইলেও পারিনি তোমার কাছে ফিরে আসতে। কিন্তু তোমাকে ভুলিনি অপূর্ব, কখনোই না।"
অপূর্বের চোখে জল চলে আসে, "তাহলে এখন?"
মেঘলা মৃদু হাসল, "এখন আমাদের হাতে আবার সময় আছে। যদি তুমি চাও..."
বাতাসে এক নতুন অনুভূতির ছোঁয়া লেগে থাকল। হয়তো এবার তাদের গল্পটি অসমাপ্ত থাকবে না...
পরবর্তী কয়েকদিন অপূর্ব আর মেঘলা একসঙ্গে কাটাল। পুরোনো স্মৃতি নতুন করে ফিরে এলো। পার্ক, ক্যাফে, শহরের অলিগলি—সব জায়গায় তাদের পদচিহ্ন পড়তে লাগল।
এক সন্ধ্যায় তারা নদীর ধারে বসেছিল। অপূর্ব বলল, "তুমি কি চাও আমাদের গল্পটা এবার সম্পূর্ণ হোক?"
মেঘলা একটু হাসল, বলল, "আমাদের গল্প কখনো অসমাপ্ত ছিল না, অপূর্ব। এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল।"
একটা বাতাস বয়ে গেল, নদীর পানিতে ঢেউ উঠল। অপূর্ব মেঘলার হাত ধরল। নতুন এক শুরু হতে চলল...
দিন কেটে যেতে লাগল, কিন্তু মেঘলার মনে এক ধরনের সংশয় কাজ করছিল। অপূর্ব সেটা বুঝতে পারছিল। একদিন, অপূর্ব জিজ্ঞেস করল, "তুমি কি কিছু লুকাচ্ছো?"
মেঘলা একটু চুপ করে থাকল, তারপর বলল, "অপূর্ব, আমি বিয়ে করেছি... কিন্তু সে মানুষটা আমাকে কখনো ভালোবাসেনি। আমাদের সম্পর্ক শুধু একটা সামাজিক বন্ধন ছিল। আমি চেষ্টা করেছি সব ঠিকঠাক রাখতে, কিন্তু পারিনি। অবশেষে আমরা আলাদা হয়ে গেছি।"
অপূর্ব স্তব্ধ হয়ে গেল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, সময় থমকে গেছে। তারপর সে মেঘলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি কি এখন সুখী?"
মেঘলা একটু হেসে বলল, "সুখী হওয়া কি এত সহজ? তবে হ্যাঁ, এখন আমি মুক্ত, নিজের মতো করে জীবন গড়তে পারি।"
অপূর্ব ধীরে ধীরে বলল, "তাহলে এবার তোমার জীবনটাকে নতুন করে সাজাও, মেঘলা। যদি চাও, আমি থাকব তোমার পাশে।"
নদীর ওপার থেকে ভেসে এলো সান্ধ্য প্রার্থনার ঘণ্টার শব্দ। মেঘলা অপূর্বর হাতটি শক্ত করে ধরল। তাদের গল্পটা কি এবার সম্পূর্ণ হবে? হয়তো ভবিষ্যতই এর উত্তর দেবে...
